| কোড: 316794 | তারিখ: 2012/05/22 - 08:17 | সূত্র: আবনা | print |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সৌদি আরবের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা দিনের পর দিন গুরুতর হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রাধান্য বিস্তারের লক্ষ্যে সৌদি আরব কর্তৃক প্রতিবেশী দেশসমূহের অভ্যন্তরিন বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা জানিয়েছে বেশ কিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আর এ বিষয়টি এ সকল দেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্কের অবনতি ঘটার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের শাসক পরিবার এদেশের অভ্যন্তরিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং মুক্তিকামী সৌদি জনতাকে কঠোর হস্তে দমন করছে।
যা কিছু আগামীতে আসছে তা সৌদি আরবের বিগত কয়েকদিনের সংবাদের একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
-সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জেনেভায় পর্যালোচনা বৈঠক
মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক সংস্থাসমূহ, সৌদি আরবের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে জেনেভায় বৈঠকে বসবে। পর্যালোচনামূলক এ সভাটি আগামী ২৪শে মে, আরব ও পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহসহ অন্যান্য দেশের মানবাধিকার বিষয়ে সক্রিয় ও আইনজীবিদের উপস্থিতিতে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া বলা হয়েছে যে, ইউরোপের বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এ সভায় অংশগ্রহণ করবে।
-সৌদি আরবে শিয়া ব্যক্তিত্ব গ্রেপ্তার
আরবদেশসমূহে মানবাধিকার তথ্য বিষয়ক আরবি নেটওয়ার্ক, সৌদি আরবের জনৈক শিয়া ব্যক্তিত্ব গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে।
মানবাধিকার তথ্য বিষয়ক আরবি নেটওয়ার্ক কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক, সৌদি আরবের সরকার বিরোধী ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত পারস্য উপসাগর বিষয়ক স্ট্যাডি সেন্টারের প্রধান ‘কামাল আব্বাস আল-আহমাদে’র ভাই ‘আলী আব্বাস আল-আহমাদ’কে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে মানবাধিকার বিষয়ে সক্রিয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র, ধর্ম ও নারী বিরোধী বর্ণবাদী সরকারে কোন প্রকার সংশোধনের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিবৃতিতে এসেছে যে, যে সকল স্বৈরাচারী সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জনগণকে দমন করে তাদের সবার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব এবং তারা বাক ও চিন্তা স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শত্রু; সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য এবং সারাবিশ্বে যে সকল সংস্থা ও ব্যক্তি মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট তাদের উচিত স্বৈরাচারী এ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং এদেশের জনগণ ও এদেশে অবস্থানরত বিদেশীদের বিরুদ্ধে তাদের অপরাধকর্ম বন্ধের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে দেশটির বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে রূপান্তরিত না হওয়ার বিষয়ে পথরোধ করা।
মানবাধিকার তথ্য বিষয়ক আরবি নেটওয়ার্ক আরো উল্লেখ করেছে যে, আরব ও অনারব দেশসমূহের উচিত, সৌদি আরবের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে তারা মানবাধিকারের বিষয়ে তাদের কালো ইতিহাসের পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়।
সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি ‘আলী আব্বাস আল-আহমাদ’কে বিনাকারণে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি প্রথমবারের মত সৌদি বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হননি। ইতিপূর্বেও সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে কোনরূপ কোন কারণ দর্শাও ছাড়াই প্রায় ৯ বছর আটকে রেখেছিল এবং প্রায় দেড় বছর সময় যাবত তার সৌদি আরব ত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
জনাব আলী আব্বাস আল-আহমাদ সৌদি আরবের একজন শিয়া ব্যক্তিত্ব, তিনি ২০০৯ সালে, মসজিদুল হারামের খতিব ‘আদেল আল-কালবানী’র শিয়া বিরোধী তাকফিরী মন্তব্যের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন।
তিনি সৌদি আরবে মানবাধিকার বিষয়ে সক্রিয় একদল ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তাদেরকে তাকফিরী ফতওয়াসমূহ প্রদান এবং শিয়া ও অন্যান্য মাযহাব বিরোধী সাম্প্রদায়িক বৈষম্যতা সৃষ্টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
যদিও তার গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে যে, ওয়াশিংটনে তত্পর তার ভাইকে চাপের মুখে রাখার জন্য এবং তিনি যেন সৌদি আরবের রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে সমালোচনা না করেন -এ বিষয়টি রুখতে এ পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।
সৌদি আরবে জনাব আলী আব্বাস আল-আহমাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা তখন ঘটলো, যখন স্বৈরাচারী সৌদি আরব সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী এদেশের পূর্ব অঞ্চলীয় প্রদেশ ‘আল-শারকিয়া’র শিয়াদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এছাড়া গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ও গ্রেপ্তারকৃত ১০ হাজার সৌদি নাগরিকের মুক্তির বিষয়ে যে কোন দাবীকে দমন করার লক্ষ্যে লেখক, চিন্তাবিদ ও আইনজীবিদের উপর চাপ সৃষ্টি বৃদ্ধি করেছে।
-সৌদি আরবে গণবিপ্লব নিকটেই
সৌদি আরবের ইসলামপন্থী দল ‘আল-উম্মাহ’ এদেশের স্বৈরাচারী শাসকদের বিভিন্ন পদক্ষেপে, বিশেষতঃ ইয়েমেন গণবিপ্লবের বিষয়ে মার্কিনী যুক্তরাষ্ট্রের পাশে অবস্থানের বিষয়ে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে বিপ্লব নিকটেই।
ইসলামি দল ‘আল-উম্মাহ’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ‘শেইখ মুহাম্মাদ বিন সায়াদ আলে মুফাররাহ’ বলেছেন : সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি একই পরিখায় ইয়েমেন এবং এদেশের শান্তিপূর্ণ গণবিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আর এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েমেনের জনগণের উপর অত্যাচারে বিরোধী সৌদি জনতার সম্মুখে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
শেইখ মুহাম্মাদ বিন সায়াদ বলেন : ইয়েমেনের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী সৌদি সরকারের দায়িত্বহীন ও অনৈতিক পদক্ষেপ হতে স্পষ্ট হয় যে, সৌদি আরবের সাধারণ জনগণ ইয়েমেনের জনগণকে সমর্থন করে।
তিনি বলেন : শত্রুর সাথে একই পরিখায় অবস্থান করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়... স্বৈরাচারী সরকারের জানা উচিত যে, মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্যে তার সকল দোসরদের পৃষ্ঠপোষকতা হতে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
-সৌদি আরবে গণহত্যা অব্যাহত
গত এক বছরের সৌদি পত্র-পত্রিকার জন্য সবচেয়ে গরম খবর ছিল এদেশের নাগরিকদের ধারাবাহিক আত্মহত্যার ঘটনা।
সৌদি আরবের পত্র-পত্রিকা চলতি বছরের শুরুতে ৩৪টি আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার লক্ষ্যে চেষ্টার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে। আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া লোকদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে যুবক, যারা মূলতঃ বেকারত্ব এবং কাজ পাওয়া হতে হতাশ হওয়ার কারণে এ পথ বেছে নিচ্ছে।
মিড্ল ইস্ট অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময়কালে সৌদি আরবে বসবাসকারী প্রায় ২৮ জন এশিয়ানও আত্মহনন করেছে।
সৌদি দৈনিকসমূহ গত বুধবার জানিয়েছে যে, একদিনে মদিনা শহরে ৩ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে, যাদের মধ্যে ১৪ বছর বয়স্ক এক কিশোরীও রয়েছে। ঐ কিশোরী ছয়তলা হতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে।
এশিয়ায় সাধারণত ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যার ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও সৌদি আরব সরকারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের প্রকাশ ঘটাতে তারা ব্রিজের উপরে হতে আত্মহত্যা করছে।
মার্চ মাসেও রিয়াদের ঝুলন্ত পুলে ২ ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়, তাদের দু’জনই মৃত্যু বরণ করে। সম্প্রতি ৩০ বছর বয়স্ক এক যুবক, তায়েফের একটি পার্কে গলায় টাই পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সৌদি আরবে দৈনিকসমূহ হতে আত্মহত্যাকারীদের সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে উদ্বিগ্নতার জন্ম নিলেও শুধুমাত্র সরকারীভাবে এ পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি আরবের চিকিত্সকদের একটি দল এদেশের যুবকদের আত্মহত্যার গড়কে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
২০০৯ সালে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবছর এ দেশে ২২১ থেকে ৩২৩ জন নাগরিক আত্মহত্যা করে। যদিও আত্মহত্যা চেষ্টাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশী। সৌদি আরবের বেশ কিছু লেখক এদেশে আত্মহত্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এ সকল ঘটনাকে মূলতঃ কয়েকটি কারণে ঘটছে তম্মধ্যে রয়েছে প্রতিবাদ তিউনিশীয় যুবক ‘বু আযিযি’র অনুসরণ, দারিদ্রতা, বেকারত্ব এবং দূর্নীতি উল্লেখযোগ্য।
অবশিষ্ট অংশের জন্যঅপেক্ষায় থাকুন...